রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়াইটা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বনাম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ সাহেব।
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৮-২০২৬ ০৬:৪৬:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৮-২০২৬ ০৬:৪৬:২৪ অপরাহ্ন
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর অপোজিশন জোটের প্রার্থী রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ।
কনফার্ম থাকেন, বিএনপি মনোনয়ণ দিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবে, কারণ সংসদে বিএনপির মেজরিটি আছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার শুধু সংসদ সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে যে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে ভোটাররা যেহেতু সংসদ সদস্য এবং তারা মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, বাস্তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকার ও বিরোধী পক্ষের প্রার্থী দেওয়াটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক রীতি।
এখানেই এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্বটা আলাদা। ১১ দলীয় জোট বিশেষ করে জামায়াত এই শতকের অন্যতম বড় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা দরকার ছিলো।
আমি ভেবেছিলাম, জামায়াত আবার হেকমত দেখাতে গিয়ে প্রার্থী না দিয়ে চুপচাপে গর্তে চলে যায় কিনা কিন্তু অলরেডি তারা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমদ সাহেব বীর বিক্রমকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন, আমার মতে এটাই ভালো হয়েছে।
অবশ্য জামায়াত চাইলে একক ভাবে ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসা এটিএম আজহারুল ইসলামকেও প্রার্থী করতে পারতেন, রংপুর থেকে তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে এমপি হয়েছেন, সংসদের একজন মান্যবর সদস্য হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেছেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতাও রয়েছে।
কিন্তু কর্নেল অলি আহমদকে সামনে আনার রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বড়।
সংসদে জামায়াতের প্রায় ৯০ জন এমপি আছেন আর সংরক্ষিত আসন ও জোটের হিসাবসহ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী থাকলে জামায়াত জিতবে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিততেই হবে, কখনো কখনো নির্বাচনে অংশ নেওয়াটাই একটি রাজনৈতিক বার্তা।
ধরেন, তারা জানে যে তারা হারবেন তারপরও কেন লড়বেন? কারণ প্রতিটি ভোট এখানে একেকটা রাজনৈতিক স্বাক্ষর হিসেবে থাকবেন।
প্রথমতঃ- ৯০টি ভোটকে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
দ্বিতীয়তঃ- ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক precedent তৈরি হবে। আজকের পরাজয়ই কালকের উত্থানের মাইলফলক হতে পারে।
তৃতীয়তঃ- কর্মী-সমর্থকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে তারা শুধু ক্ষমতাসীনদের দর্শক হিসেবে থাকছে না এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও নিজেদের রাজনৈতিক দাবি রাখেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি একটি কৌশল। protest politics থেকে state power -এর দাবিদার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ তৈরি করবেন। সবচেয়ে বড় কথা সব নির্বাচন জিতার জন্য লড়াই হয় না কিছু নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় নিজের অবস্থানটা স্পষ্ট করার জন্যও লড়তে হয়।
এই নির্বাচন তেমনই একটি নির্বাচন হতে পারে, কর্নেল অলি আহমদ সাহেবের বাকি জীবনে আর কী লাগে??
একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, খেতাব প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, দীর্ঘদিনের রাজনীতি তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী জোটের প্রার্থী হওয়াটাই তো বিশাল একটি রাজনৈতিক স্বার্থকতা। achievement.
আর জামায়াতের জন্য
রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘ প্রতিকূলতা, নিষেধাজ্ঞা, মামলা-মোকদ্দমা, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং নানা সংকট পেরিয়ে আবার সংসদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ফিরে আসার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে রেখে লড়াই করা এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় political statement.
রাজনৈতিক মুভ সব সময় immediate victory দিয়ে বিচার করা যায় না, কোনো কোনো মুভের মূল্য থাকে positioning, legitimacy, narrative এবং future bargaining power -এ।
আজ হেরে গেলেও কাল এই নির্বাচনের ৯০টি ভোট তাদের রাজনৈতিক হিসাবের অংশ হয়ে থাকবে।
আর জামায়াতের রাজনীতিতে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থানের জন্য এরচাইতে ভালো সময়ই বা আর কখন আসতো??
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করাটা কর্নেল অলি আহমদ সাহেবের জীবনের বিশাল একটি achievement হতে পারে আর জামায়াতের জন্য হতে পারে একটি বড় statement.
সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এই smart political move -এর জন্য জামায়াতকে অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য।
সভাপতি,
লায়ন মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী,
বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি এবং
চেয়ারম্যান,
মানবতার দুয়ার ফাউন্ডেশন- এমডিএফ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স